শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:২১ অপরাহ্ন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীর উত্তম জেল থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগের ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নৌকার প্রার্থী হওয়ায় এর নামে কোনো মামলা নেই। তিনি বর্তমানে ফৌজদারি কোনো মামলায় অভিযুক্ত নন বলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় এমন তথ্য দিয়েছেন। তবে ২০১৮ সালে নির্বাচনের সময় দুটি মামলার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
শাহজাহান ওমরকে গত ৪ নভেম্বর রাতে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে ঢাকার নিউমার্কেট থানার বাসে আগুন দেওয়ার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে। ওই মামলায় তাঁকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। গত ২৯ নভেম্বর ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। সন্ধ্যার পরই কেরানীগঞ্জে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। পরদিন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ইউটিসি ভবনে তিনি নিজেই সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
এ ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বাড়ি, কৃষিজমি ও অ্যাপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করলেও এবার তিনি স্থাবর সম্পদ হিসেবে কিছুই উল্লেখ করেননি।
হলফনামায় দেখা গেছে, শাহজাহান ওমর কৃষি খাত থেকে ১ লাখ সাড়ে ৫ হাজার, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ২৭৭, ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬৭ এবং শেয়ার ও ব্যাংকের লভ্যাংশ থেকে ৯ লাখ ১৬ হাজার ২২৬ টাকা আয় করেছেন। তবে ২০১৮ সালে তিনি আয় হিসেবে কৃষি খাত থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার; শেয়ার ও ব্যাংক লভ্যাংশ থেকে ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৩২ এবং পেশা থেকে ১০ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ করেছিলেন।
অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে শাহজাহান ওমরের কাছে নগদ ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৭ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৭ , এফডিআর হিসেবে ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আছে। তবে ৫ বছর আগের হলফনামায় নগদ ৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৪৪, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ এবং এফডিআর হিসেবে ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিল। সেই হিসাবে তাঁর অস্থাবর সম্পদ কমেছে।
তবে হলফনামায় শাহজাহান ওমরের স্ত্রীর নামে সম্পদ বেড়েছে। ২০১৮ সালে তাঁর স্ত্রীর নামে নগদ ৭০ হাজার ৮৭৭ টাকা থাকলেও ২০২৩ সালে ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা আছে। অর্থাৎ ৫ বছরে স্ত্রীর কাছে প্রায় ৫০ গুণ নগদ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯১৩, স্থায়ী আমানত ও এফডিআর বাবদ ১ কোটি ১ লাখ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১২; স্থায়ী আমানত ও এফডিআর ১ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৯ টাকা ছিল।
শাহজাহান ওমরের ৬০ লাখ ৭০ হাজার দামের একটি গাড়ি আছে। তাঁর স্ত্রীর গাড়ির দাম দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ ৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া উভয়ের আসবাবসহ আরও ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ আছে বলে হলফনামায় উলেখ করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও তিনি একই ধরনের তথ্য উল্লেখ করেছিলেন।
Leave a Reply